
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ঘনিয়ে আসছে এক বিরল ও শক্তিশালী ঝড়। আরব উপদ্বীপ ও পারস্য উপসাগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগজনক আবহাওয়া পরিস্থিতি।
The Washington Post-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হতে পারে তীব্র বজ্রঝড়—যার সঙ্গে থাকতে পারে ক্ষতিকর ঝোড়ো বাতাস, বড় আকারের শিলাবৃষ্টি, এমনকি বিচ্ছিন্ন টর্নেডোর ঝুঁকিও।
আবহাওয়া মডেলগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান থেকে শুরু হয়ে ঝড়ের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে Dubai ও Abu Dhabi পর্যন্ত। এতে প্রধান মহাসড়ক, শহরাঞ্চল ও বিমানবন্দরগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু এলাকায় মাত্র তিন দিনেই এক বছরের সমপরিমাণ বৃষ্টি হতে পারে—যা এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
সাধারণত দুবাইয়ে বছরে গড়ে মাত্র চার ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু চলতি সপ্তাহেই সেখানে ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভারী বৃষ্টিতে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল—বাতিল হয়েছিল ১২০০-এর বেশি ফ্লাইট, ডুবে গিয়েছিল রানওয়ে।
ইউরোপীয় আবহাওয়া মডেল European Centre for Medium-Range Weather Forecasts (ইসিএমডব্লিউএফ) জানিয়েছে, ইরানের খুজেস্তান প্রদেশ থেকে শুরু হয়ে দুবাই-আবুধাবি পর্যন্ত ঘূর্ণায়মান বজ্রঝড়ের একটি শক্তিশালী রেখা তৈরি হতে পারে।
এই ঝড়ের সঙ্গে থাকতে পারে সুপারসেল বজ্রঝড়—যেখান থেকে ডিমের আকারের শিলাবৃষ্টি, ঘণ্টায় প্রায় ৯৭ কিলোমিটার বেগের বাতাস এবং প্রবল বর্ষণ দেখা দিতে পারে।
মরুভূমির মাটি দ্রুত পানি শোষণ করতে না পারায় হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষ করে আবুধাবি থেকে দুবাই পর্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে Qatar-এর শ্রম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে। নিয়োগকর্তাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে Egypt সরকার বুধবার ও বৃহস্পতিবার স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং জরুরি স্বাস্থ্য প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উত্তর ওমান, দুবাই ও আবুধাবি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।
মন্তব্য করুন