
পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দিন। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, মাঝেমধ্যে ঝরছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। তবে প্রকৃতির এই রূপও থামাতে পারেনি মানুষের আনন্দ। রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা-এ নেমেছে দর্শনার্থীর ঢল।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা বয়সী মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে। ঈদের লম্বা ছুটিতে বরাবরের মতোই রাজধানীর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই বিনোদন কেন্দ্র।
বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, হরিণ, জলহস্তি, গন্ডার—নানা প্রাণী দেখে অনেকেই যেন ফিরে গেছেন শৈশবে। শিশুদের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বড়দের মাঝেও ছিল আলাদা আনন্দ।
আজিমপুর থেকে আসা সুমাইয়া ইসলাম বলেন—
“ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে একটু খোলা জায়গায় আসতে চেয়েছিলাম। বাচ্চারা বাঘ-সিংহ দেখে খুব খুশি। বৃষ্টির আবহাওয়াটাও দারুণ লাগছে।”
ধানমন্ডি থেকে আসা রফিক আহমেদ বলেন—
“মেয়েদের ভালো রেজাল্টের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তাই চিড়িয়াখানায় নিয়ে এলাম। তারা বিশেষ করে সাপ দেখে খুব মুগ্ধ হয়েছে।”
দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীর সংখ্যা। ১৩৭ প্রজাতির ৩ হাজারেরও বেশি পশু-পাখির এই চিড়িয়াখানায় উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
বানর, হাতি, জলহস্তির দুষ্টুমিতে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। একদিকে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিণ, অন্যদিকে লম্বা গলা উঁচু করে জিরাফ যেন স্বাগত জানাচ্ছে সবাইকে। সিংহের খাঁচার সামনেও ছিল বাড়তি ভিড় ও উচ্ছ্বাস।
এদিকে, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে জোরদার ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দিনে কয়েক লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে। আর ছুটির বাকি দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাদের প্রত্যাশা।
মন্তব্য করুন