পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ৫৪ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করে দেশকে ঐক্য ও সমৃদ্ধির পথে এবং জনগণের ক্ষমতায়নের দিকে এগিয়ে নিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভোটারদের মতামত প্রকাশে আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার বেলা ১১টায় ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটাররাও ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছেন। তবে এখনও কিছু মানুষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কারণ দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের প্রেতাত্মা সমাজে রয়ে গেছে, যারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিগত ধারার পরিবর্তন আনতে হলে এ বছর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই যোদ্ধাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থা বন্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন জানাতে হবে। অন্যথায় দেশ আবার ফ্যাসিবাদের কবলে পড়তে পারে।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামসহ বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।
বক্তারা ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ রুখে গণতন্ত্রকে স্থায়ী করতে সবাইকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘পরিবর্তনের চাবি, জনগণের হাতে’ স্লোগানকে সামনে রেখে গণভোটের পক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অম্বিকা ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।
গণভোটের প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এই বক্তব্য মূলত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একইসাথে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে কেন্দ্র করে। এখানে তিনি ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই বক্তব্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
-
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: রিজওয়ানা হাসান ৫৪ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করার কথা বলেছেন, যা সম্ভবত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিভিন্ন সময়ে হওয়া স্বৈরশাসনের ইঙ্গিত দেয়।
-
গণভোটের তাৎপর্য: তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং স্বৈরাচারী ব্যবস্থা বন্ধের পক্ষে সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যে, এই গণভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
-
নির্বাচন নিয়ে সংশয়: রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেছেন যে, কিছু মানুষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এর কারণ হিসেবে তিনি দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের প্রেতাত্মাদের দায়ী করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ভোটারদের বিভ্রান্ত না হয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
-
ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধের আহ্বান: তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন না জানালে দেশ আবার ফ্যাসিবাদের কবলে পড়তে পারে। এর মাধ্যমে তিনি ভোটারদের মধ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী চেতনা জাগ্রত করতে চেয়েছেন।
-
রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ: মতবিনিময় সভায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতারাও অংশগ্রহণ করেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ রুখে গণতন্ত্রকে স্থায়ী করতে সবাইকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই গণভোটের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন রয়েছে।
এই গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ভোটারদের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারিত হবে।