সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) এবং ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এক সমবেদনা স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএসইর মাল্টিপারপাস হলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ অতিথিরা
স্মরণসভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ সহ কমিশনারবৃন্দ, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, বিএপিএলসি’র প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ এবং বিভিন্ন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণে বক্তৃতা
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম স্মরণসভায় বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অনন্য। তাঁর শাসনামলে দেশের বাজারভিত্তিক ও বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন হয়। ১৯৯১ সাল থেকে বেসরকারি খাতের বিস্তার আজকের অর্থনৈতিক সফলতার মূল চালিকা শক্তি।”
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় ও দূরদর্শী নেত্রী। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৩ সালে বিএসইসি গঠিত হয়, যা দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করে। ১৯৯৪ সালে তিনি ঢাকায় স্টক এক্সচেঞ্জে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর জাতীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে শিল্প ও কর্পোরেট খাতকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছেন।”
ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্মরণসভায় উল্লেখ করেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মানবিক রাজনীতিবিদ, যিনি বিরোধী মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পুঁজিবাজার উন্মুক্ত করে আধুনিক পুঁজিবাজারের সূচনা করেন।”
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, “খালেদা জিয়ার জানাজায় দেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে তিনি কত মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা।”
বিএপিএলসি’র প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তাঁকে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী করেছেন।”
প্রভাব ও গুরুত্ব
এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার অবদানের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পুঁজিবাজারের প্রসার এবং রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মৌলিক অধ্যায়ের সূচনা করেন। এই স্মরণসভা বর্তমান প্রজন্ম