ভূমি মন্ত্রণালয় চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করেছে যে ভাসানচরের ৬টি মৌজা এখন থেকে চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে নোয়াখালীর হাতিয়া ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধের নিষ্পত্তি হলো।
এই সিদ্ধান্তের আগে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের গঠিত কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়। সরেজমিন তদন্ত, ঐতিহাসিক দলিলপত্র এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভাসানচরের সীমানা নির্ধারণে গঠিত কারিগরি কমিটি একাধিক ধাপে কাজ করেছে। তারা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, সিএস ও আরএস জরিপ নথি, দিয়ারা জরিপ, বন বিভাগের তথ্য এবং স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে দ্বীপটির ছয়টি মৌজাকে সন্দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনিক নথি অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের দিকে ন্যায়ামস্তি ইউনিয়ন ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়ে সাগরে বিলীন হয়ে যায়। এরপর ভাঙনের কয়েক বছরের মধ্যেই ন্যায়ামস্তির অবস্থানে নতুন করে চর জেগে ওঠে, যা বর্তমানে ভাসানচর নামে পরিচিত।
২০১৭ সালে দিয়ারা জরিপের মাধ্যমে ভাসানচরকে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অংশ হিসেবে দেখিয়ে সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সন্দ্বীপবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে, ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ভাসানচর থানা গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে দ্বীপটিকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সন্দ্বীপের বাসিন্দা মনিরুল হুদা এই বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্বাহী বিভাগকে সীমানা জটিলতা নিরসনের নির্দেশ দেয়।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা বলেন, প্রশাসনিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত হওয়ায় মানুষ স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সন্দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে, কারণ তারা মনে করেন এটি তাদের দীর্ঘদিনের দাবির স্বীকৃতি।