মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার স্থানীয় প্রজাতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কৃষক, বিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি নিরাপদ জেনেটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের প্রভাব থেকে সতর্ক থাকার কথা বলেন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আয়োজিত ১ম আন্তর্জাতিক লাইফ সায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনকে সমর্থন করি, তবে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। জেনেটিক পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে, তবে মালিকানা ও অধিকার অবশ্যই স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের স্বার্থে হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রজাতি রক্ষা ও টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি ও জলজ সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। জেনেটিক মডিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভিদ বা প্রাণীকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, মাছ কেবল পুষ্টির উৎস নয়, বরং ত্বকের যত্ন ও কসমেটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো পণ্য তৈরি হলে তা সকল মানুষের জন্য সহজলভ্য হওয়া উচিত। বাংলাদেশ জলজ বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এবং এই বৈচিত্র্য দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
তিনি বিশেষভাবে স্থানীয় বাগদা চিংড়ির কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন কিছু মৎস্য শিল্প সংশ্লিষ্টরা ভেনামি চিংড়ি চাষে পোনা আমদানির আবেদন করলেও, তা বন্ধ করে দেশীয় প্রজাতি গলদা বাগদা উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফরিদা আখতার স্থানীয় প্রজাতি রক্ষায় এবং জেনেটিক প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।