আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে পণ্যদ্রব্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আগামী ১৯ জানুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। রোববার (১১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই সভায় সকল অংশীদার মিলিত হয়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমরা একটি সমন্বিত পর্যালোচনা করব, যার মাধ্যমে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি আরও ভালভাবে বুঝতে পারবো এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হব।”
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে কিছুটা উত্তেজনাকর হলেও, বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। “আমরা এখন পর্যন্ত কোনও নেতিবাচক প্রভাব দেখতে পাইনি এবং বাণিজ্যে কোনো চাপও অনুভব করছি না,” বলেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি জানান যে, বিদ্যমান আমদানি নীতি আদেশ (২০২১-২৪) থেকে বড় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে ২০২৫-২৮ মেয়াদের জন্য নতুন আমদানি নীতি আদেশ (আইপিও) খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। “আমরা আমদানি নীতিকে আরও উদার ও সহজতর করার চেষ্টা করছি,” বললেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই এটি কেবিনেটে উপস্থাপন করা হবে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজ করতে বিভিন্ন পরিবর্তন করছি। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন চুক্তিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা বাণিজ্য সহজীকরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”
রমজান মাসে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বর্তমান বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মাঝে বাংলাদেশ সরকার যে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করছে, তা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নতুন আমদানি নীতি ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যাচ্ছে।