বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে রেমিট্যান্স বিতরণের প্রক্রিয়া সহজতর এবং দ্রুত করার জন্য নতুন একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ ও ডিজিটাল ইন্টারফেস গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া দ্রুততম করার নতুন নির্দেশনা
নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, প্রবাসীরা পাঠানো রেমিট্যান্স দ্রুততম সময়ে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে বার্তা পাওয়া গেলে তা ওই দিনই জমা দিতে হবে, আর ব্যাংকিং সময়ের পরে মেসেজ আসলে পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যে টাকা জমা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে কিছু নথিপত্র অসম্পূর্ণ থাকলেও প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে অর্থ জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাকি নথিপত্র পরবর্তীতে পোস্ট-ক্রেডিট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে।
ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ
বাংলাদেশ ব্যাংক ফর্ম-সি ও ফর্ম-সি (আইসিটি) বাতিল করে এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ ডিজিটাল ইন্টারফেস স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে, যা গ্রাহকদের অনলাইনে তথ্য ও নথিপত্র জমা দিতে সক্ষম করবে। গ্রাহকরা এই প্ল্যাটফর্ম থেকে লেনদেনের অগ্রগতি দেখতে এবং ইলেকট্রনিক স্বীকৃতি পেতে পারবেন। ডিজিটাল ইন্টারফেস পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত নির্দেশনা ও সময়সীমা
- দিনের মধ্যেই অর্থ জমা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতি ৬০ মিনিটে ‘নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট’ সমন্বয় করতে হবে।
- পেমেন্ট ট্র্যাকিংয়ের স্বচ্ছতার জন্য ‘ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজেকশন রেফারেন্স’ (ইউইটিআর) ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা রেমিট্যান্স আসা থেকে অ্যাকাউন্টে জমা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ট্র্যাক করবে।
- ব্যাংকগুলোকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে।
অর্থায়ন ও প্রভাব
এই আধুনিকায়ন প্রকল্পে জার্মানি বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ২৭০ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং গ্রাহকবান্ধব হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।